প্রথমবার যে বর্ষায় সে প্রেমে পড়েছিল তখনও তাকে কিশোরী বললেই চলে। অল্প কথায় অভিমান, সামান্য অবহেলায় কান্নাকাটি এবং এর থেকেও সামান্য ভালবাসায় অন্ধ হয়ে যাওয়া। তরুণ যুবক, তার প্রেমিকটি প্রবাসী হলেও যথাসাধ্য চেষ্টা করতো কিশোরী বান্ধবীর মন রাখতে। ৯ মাসে ৬ মাসে একবার হাত ধরা আর তেপান্তরের মাঠ পার করতে করতে কিশোরীর কানে কানে বলেছিল 'বহুদুর হেটে এসে তোমাকে চাই, এ জীবন ভালবেসে তোমাকে চাই।'
মফঃস্বলের ছোট্ট স্টেশনে বিকেলের ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে ঠায়। পড়ন্ত রোদ ঠাস করে এসে গালে লাগলো। তরুণ যুবকের মা ঘোষণা করলেন তাঁর সোনার টুকরো ছেলের নাকি প্রেম নয়, মতিভ্রম হয়েছে মাত্র। তরুণ যুবক কিশোরীর দিকে তাকিয়ে হ্যাঁও বলল না, মায়ের দিকে তাকিয়ে নাও বলল না। কৈশোরের সীমান্তে দাঁড়িয়ে এক সদ্য যুবতী হৃদয় ভাসালো অলকানন্দা জলে। আর ভাসালো ঘুম।
বন্ধুরা হাত ধরে বলল, 'এতো আকছার ঘটে। সাদা কালো লং শটে । খালি পায়ে কেউ বাড়ি ফেরে বৃষ্টিতে ভিজে'। সত্যি বলতে তার আর খুঁজতে সাহস হয়নি। তার আর তরুণ যুবক খোঁজার সাহস হয়নি।
তারপর আবার এক বৃষ্টির দুপুর। প্রথমবার যুবতী পড়ছে, 'ভারি ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের ভেতর ঝরে'। কিছু বুঝে ওঠার আগেই 'চিরকালীন ভালবাসার বাঘ বেরলো বনে'।কবির প্রেমে, নাকি কবিতার প্রেমে? যুবতীর ঘরে তখন মেঘ বৃষ্টির ভালবাসার কথা, 'মেঘ ছিল তার ঘর, বৃষ্টি ঘরের মধ্যে বাড়ি।'
কবি কবিতা পড়ায়, কবি কবিতা লেখায়। কবি সমাজকে বলে 'ধুত্তোর' আর নিয়মকে করে ধুলিসাৎ! পায়ে ধরলেও কবিকে দিয়ে বলানো যায় না 'ভালোবাসি'। কবি লিখে দেয় 'সূর্যের আলোর মত যা উজ্জ্বল, সে কথাও মুখে বলে দিতে হবে বল?' কবি মুগ্ধতা। কবি অশান্তি। তবে জয় গোস্বামী তো লিখেছেন -
'অশান্তি চরমে তুলব, কাকচিল বসবে না বাড়িতে
তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি, আমি ভাঙব কাঁচের বাসন...
পাগলী, তোমার সঙ্গে নিরক্ষর জীবন কাটাবো
পাগলী, তোমার সঙ্গে চার অক্ষর কাটাবো জীবন।'
অশান্তি! তাতে কি হয়েছে? কাঁদছি? তাতে কি হয়েছে? ২১ বছরের এক যুবতীর কোন আত্মবিশ্বাস নেই? তাতে হয়েছেটা কি? কবি কবিতা লিখেছে তো - 'কাজলরঙ্গা একুশে নারী হৃদয়পুরের লোক।' কিন্তু দেশে দেশে রটনা হলো - কবির ঘরণী চাই, পাগলী চাই না। অমিল চাই না। কোনরকম অমিল চাই না। মতের অমিল একদম চাই না। চাই না। চাই না। চাই না। 'স্বাভাবিক হও।' কিন্তু তার তো ঘুম হয় না।
চন্দ্রবিন্দু না ঈশ্বরীয়? প্রাক্তন না পলাতক? এসব ভাবনা চিন্তা চলছে। তার মধ্যে গবেষণা চলছে যে বন্ধুত্ব বানাতে কি লাগে? দু চা-চামচ সিমপ্যাথী, প্রায় ভুলতে বসা শত্রুতা, ছোটবেলা ভরা সুকুমার রায়, কৈশোর আর যৌবন ভরা বাংলা গান আর কবিতা। ওহ, ওহ আর শ্রীজাত লাগে বেশ অনেকটা। কিন্তু বন্ধুত্ব থেকে প্রেম হতে কি লাগে সেটা বোঝা গেল না। বোধহয় 'চুমুর থেকেও অতীতগামী চুমুর ইচ্ছে' বা বন্ধু নামক রঙেরা যখন লিখে পাঠায় -
'আজ অন্ধকারই ভরসা, চোখে কাজল কালো বর্ষা'।
কবিতায় বেঁচে থাকা যায়। কারা যেন বলেছিল, শুধু মাত্র কবিতাতেই বেঁচে থাকা যায় বাকি আর কিচ্ছুতে না। যেমন শ্রীজাত বলেছেন -

'বিকেল হলে ঘুরতে বেরোই,
স্টিমার চেপে গঙ্গা পেরোই,
তুমি, আমি, দাস কেবিন -
আর মনজিনিস!'
কিন্তু তারপর? তারপর কি হবে যখন গ্রীষ্মকালের কোলকাতায় আর বিকেল হবে না? খালি অন্ধকার নামবে ? অন্ধকারের মধ্যে যুবতী ছুটছে আর পিছন থেকে একটা আওয়াজ আসছে 'আমাদের সম্পর্কটা... আমাদের সম্পর্কটা... আমাদের সম্পর্কটা... আর এগোচ্ছে না।' আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে সাহস হল না।আর ঘুম এলো না।
দিন কেটেছে। অস্বাভাবিক অস্বস্তিপূর্ণ রাত কেটেছে। মানুষের ব্যঙ্গ কেটেছে। প্রিয়জনের দুশচিন্তা কেটেছে। আর সাথে বোধহয় মেয়েটির ঘোর কেটেছে।হাত পেতে পেতে ঘুরে বেড়িয়েছে - 'শান্তি দেবে? শুধুই শান্তি? আর কিচ্ছু চাই না। যাতে আমি রাতে ঘুমাতে পারি। যাতে সকালে কষ্ট না হয়। যাতে গলায় ব্যথা না করে।'
না, হঠাৎ করে কেউ হাত ধরেনি। আসতে আসতে একজন এগিয়ে এসছে। না, আর কোন রাত জেগে কবিতা হয়নি, এবার রাত জেগে গল্প হয়েছে। ছোটবেলার গল্প, মা-বাবার গল্প, কাল কি খাবো গল্প, অফিসে কি হচ্ছে গল্প। স্টেশনে ছোটাছুটি হয়েছে। প্রেম মোটামুটি হয়েছে। রাগারাগি হয়েছে। রান্নাবান্না হয়েছে। ফিরে আসা হয়েছে। ভালবাসা হয়েছে আর কি হয়েছে জানেন? আরামে ঘুম হয়েছে। আর বোতল ভর্তি নীল আলোর দিকে তাকিয়ে গুনগুন করে গান হয়েছে - 'মুখে ভালবাসি না বলে মনেতে প্রেম নিয়ে চলে আছে অনেকেই। এতদিন ছিল সাধারণ তার মাঝে একজন যাকে আজ বড় আলাদা লাগে...'
মফঃস্বলের ছোট্ট স্টেশনে বিকেলের ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে ঠায়। পড়ন্ত রোদ ঠাস করে এসে গালে লাগলো। তরুণ যুবকের মা ঘোষণা করলেন তাঁর সোনার টুকরো ছেলের নাকি প্রেম নয়, মতিভ্রম হয়েছে মাত্র। তরুণ যুবক কিশোরীর দিকে তাকিয়ে হ্যাঁও বলল না, মায়ের দিকে তাকিয়ে নাও বলল না। কৈশোরের সীমান্তে দাঁড়িয়ে এক সদ্য যুবতী হৃদয় ভাসালো অলকানন্দা জলে। আর ভাসালো ঘুম।
বন্ধুরা হাত ধরে বলল, 'এতো আকছার ঘটে। সাদা কালো লং শটে । খালি পায়ে কেউ বাড়ি ফেরে বৃষ্টিতে ভিজে'। সত্যি বলতে তার আর খুঁজতে সাহস হয়নি। তার আর তরুণ যুবক খোঁজার সাহস হয়নি।
তারপর আবার এক বৃষ্টির দুপুর। প্রথমবার যুবতী পড়ছে, 'ভারি ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের ভেতর ঝরে'। কিছু বুঝে ওঠার আগেই 'চিরকালীন ভালবাসার বাঘ বেরলো বনে'।কবির প্রেমে, নাকি কবিতার প্রেমে? যুবতীর ঘরে তখন মেঘ বৃষ্টির ভালবাসার কথা, 'মেঘ ছিল তার ঘর, বৃষ্টি ঘরের মধ্যে বাড়ি।'
কবি কবিতা পড়ায়, কবি কবিতা লেখায়। কবি সমাজকে বলে 'ধুত্তোর' আর নিয়মকে করে ধুলিসাৎ! পায়ে ধরলেও কবিকে দিয়ে বলানো যায় না 'ভালোবাসি'। কবি লিখে দেয় 'সূর্যের আলোর মত যা উজ্জ্বল, সে কথাও মুখে বলে দিতে হবে বল?' কবি মুগ্ধতা। কবি অশান্তি। তবে জয় গোস্বামী তো লিখেছেন -
'অশান্তি চরমে তুলব, কাকচিল বসবে না বাড়িতে
তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি, আমি ভাঙব কাঁচের বাসন...
পাগলী, তোমার সঙ্গে নিরক্ষর জীবন কাটাবো
পাগলী, তোমার সঙ্গে চার অক্ষর কাটাবো জীবন।'
অশান্তি! তাতে কি হয়েছে? কাঁদছি? তাতে কি হয়েছে? ২১ বছরের এক যুবতীর কোন আত্মবিশ্বাস নেই? তাতে হয়েছেটা কি? কবি কবিতা লিখেছে তো - 'কাজলরঙ্গা একুশে নারী হৃদয়পুরের লোক।' কিন্তু দেশে দেশে রটনা হলো - কবির ঘরণী চাই, পাগলী চাই না। অমিল চাই না। কোনরকম অমিল চাই না। মতের অমিল একদম চাই না। চাই না। চাই না। চাই না। 'স্বাভাবিক হও।' কিন্তু তার তো ঘুম হয় না।
চন্দ্রবিন্দু না ঈশ্বরীয়? প্রাক্তন না পলাতক? এসব ভাবনা চিন্তা চলছে। তার মধ্যে গবেষণা চলছে যে বন্ধুত্ব বানাতে কি লাগে? দু চা-চামচ সিমপ্যাথী, প্রায় ভুলতে বসা শত্রুতা, ছোটবেলা ভরা সুকুমার রায়, কৈশোর আর যৌবন ভরা বাংলা গান আর কবিতা। ওহ, ওহ আর শ্রীজাত লাগে বেশ অনেকটা। কিন্তু বন্ধুত্ব থেকে প্রেম হতে কি লাগে সেটা বোঝা গেল না। বোধহয় 'চুমুর থেকেও অতীতগামী চুমুর ইচ্ছে' বা বন্ধু নামক রঙেরা যখন লিখে পাঠায় -
'আজ অন্ধকারই ভরসা, চোখে কাজল কালো বর্ষা'।
কবিতায় বেঁচে থাকা যায়। কারা যেন বলেছিল, শুধু মাত্র কবিতাতেই বেঁচে থাকা যায় বাকি আর কিচ্ছুতে না। যেমন শ্রীজাত বলেছেন -

'বিকেল হলে ঘুরতে বেরোই,
স্টিমার চেপে গঙ্গা পেরোই,
তুমি, আমি, দাস কেবিন -
আর মনজিনিস!'
দিন কেটেছে। অস্বাভাবিক অস্বস্তিপূর্ণ রাত কেটেছে। মানুষের ব্যঙ্গ কেটেছে। প্রিয়জনের দুশচিন্তা কেটেছে। আর সাথে বোধহয় মেয়েটির ঘোর কেটেছে।হাত পেতে পেতে ঘুরে বেড়িয়েছে - 'শান্তি দেবে? শুধুই শান্তি? আর কিচ্ছু চাই না। যাতে আমি রাতে ঘুমাতে পারি। যাতে সকালে কষ্ট না হয়। যাতে গলায় ব্যথা না করে।'
না, হঠাৎ করে কেউ হাত ধরেনি। আসতে আসতে একজন এগিয়ে এসছে। না, আর কোন রাত জেগে কবিতা হয়নি, এবার রাত জেগে গল্প হয়েছে। ছোটবেলার গল্প, মা-বাবার গল্প, কাল কি খাবো গল্প, অফিসে কি হচ্ছে গল্প। স্টেশনে ছোটাছুটি হয়েছে। প্রেম মোটামুটি হয়েছে। রাগারাগি হয়েছে। রান্নাবান্না হয়েছে। ফিরে আসা হয়েছে। ভালবাসা হয়েছে আর কি হয়েছে জানেন? আরামে ঘুম হয়েছে। আর বোতল ভর্তি নীল আলোর দিকে তাকিয়ে গুনগুন করে গান হয়েছে - 'মুখে ভালবাসি না বলে মনেতে প্রেম নিয়ে চলে আছে অনেকেই। এতদিন ছিল সাধারণ তার মাঝে একজন যাকে আজ বড় আলাদা লাগে...'



No comments:
Post a Comment